দৈনন্দিন জীবনে পদার্থবিজ্ঞান

বিসিএস ও সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য সাধারণ বিজ্ঞান - দৈনন্দিন জীবনে পদার্থবিজ্ঞান MCQ প্রশ্নোত্তর। চাকরির প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নব্যাংক।

মোট 99 টি প্রশ্ন | পৃষ্ঠা 1 / 7
1
মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে যে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা আমাদের দেশে প্রচলিত তাতে মাইক্রোওয়েভ অধিকাংশ দূরত্ব অতিক্রম করে -----
ক ওয়েভ গাইডের মধ্য দিয়ে
খ বিশেষ ধরনের ক্যাবলের মধ্য দিয়ে
গ খোলামেলা জায়গার মধ্য দিয়ে সরল রেখায়
ঘ ভূমি ও আয়নোস্ফেয়ারের মধ্যে প্রতিফলন হতে হবে
সঠিক উত্তর: ক (ওয়েভ গাইডের মধ্য দিয়ে)
ব্যাখ্যা:
মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে যে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা আমাদের দেশে প্রচলিত তাতে মাইক্রোওয়েভ অধিকাংশ দূরত্ব অতিক্রম করে - - ওয়েভ গাইডের মধ্যে দিয়ে
2
অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন কাজ করে ----
ক অফসেট মুদ্রণ পদ্ধতিতে
খ ডিজিট্যাল ইমেজিং পদ্ধতিতে
গ স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে
ঘ পোলারয়েড ফটোগ্রাফি পদ্ধতিতে
সঠিক উত্তর: ঘ (পোলারয়েড ফটোগ্রাফি পদ্ধতিতে)
ব্যাখ্যা:
আলোক চিত্রানুলিপিকারক (redirect from ফটোকপি মেশিন) ইংরেজি পরিভাষাতে একে "ফটোকপিয়ার" বা "ফটোকপি মেশিন" বলা হয়। উৎপাদিত নকল বা অনুলিপিগুলিকে চিত্রানুলিপি তথা ফটোকপি বলে। বেশিরভাগ আধুনিক আলোক চিত্রানুলিপিকারক ।
3
আকাশে বিজলী চমকায় ----
ক দুই খন্ড মেঘ পরস্পর সংঘর্ষে এলে
খ মেঘে বিদ্যুৎ পরিবাহী কোষ তৈরি হলে
গ মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে
ঘ মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
সঠিক উত্তর: ঘ (মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে)
ব্যাখ্যা:
ধনাত্নক ' ও ' ঋণাত্নক ' চার্জযুক্ত দুটি মেঘ কাছাকাছি আসলে আকর্ষণের ফলে চার্জ এক মেঘ থেকে অন্য মেঘে দ্রুত ছুটে যায় । ফলে ইলেক্ট্রনের ( চার্জ ) গতিপথে যে তীব্র আলোক উৎপন্ন হয় তাকে বিজলী চমকানো বলে ।
4
ছাতার কাপড়ের রং সাধারণত কালো হয় কেন?
ক ভালো লাগে তাই
খ কালো রং তাপ শোষণ করে বলে
গ কোনটাই নয়
ঘ ময়লা হয়না তাই
সঠিক উত্তর: খ (কালো রং তাপ শোষণ করে বলে)
ব্যাখ্যা:
কালো কাপড় তাপ শোষণ করে বেশী। ফলে কাপড় উত্তপ্ত হলে সেখানে শীতল বাতাস এসে বাহককে আরাম দেবে
5
কোথায় দিনরাত্রি সমান?
ক মেরুরেখায়
খ উত্তর গোলার্ধে
গ দক্ষিন গোলার্ধে
ঘ নিরক্ষরেখায়
সঠিক উত্তর: ঘ (নিরক্ষরেখায়)
ব্যাখ্যা:
নিরক্ষরেখাবলতে কোনগ্রহেরমেরুগুলো থেকে সমান দূরে অবস্থিত গ্রহপৃষ্ঠ প্রদক্ষিণকারী একটি কাল্পনিক বৃত্তকে বোঝায়। সহজ ভাষায় এটি একটি কাল্পনিক রেখা যা পৃথিবীর মাঝ বরাবর এবং উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরু থেকে দুরত্বে কল্পনা করা হয় এবং যা পৃথিবীকে দক্ষিণ গোলার্ধ এবং উত্তর গোলার্ধে ভাগ করে। এই রেখাটির মান ০ ডিগ্রি। একে বিষুবীয় রেখাও বলা হয়। সূর্য সারা বছর নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। নিরক্ষরেখা = বিষুবরেখা = মহাবৃত্ত = গুরুবৃত্ত
6
কোন উত্তরটি সঠিক নয়?
ক কুষ্ঠরোগ সংক্রামক নয়
খ নিউমোনিয়া ফুসফুসকে আক্রান্ত করে
গ চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস হয়
ঘ এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয়
সঠিক উত্তর: গ (চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস হয়)
ব্যাখ্যা:
শরীরে বহুমূত্ররোগ বহুমূত্র রোগ, মধুমেহ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস(ইংরেজি: Diabetes mellitus) একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। দেহযন্ত্র অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো 'ডায়াবেটিস' বা 'বহুমূত্র রোগ'। তখন রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। ইনসুলিনের ঘাটতিই হল এ রোগের মূল কথা। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন ইনসুলিন, যার সহায়তায় দেহের কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজকে নিতে সমর্থ হয় এবং একে শক্তির জন্য ব্যবহার করতে পারে। ইনসুলিন উৎপাদন বা ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা - এর যেকোনো একটি বা দুটোই যদি না হয়, তাহলে রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর একে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ঘটে নানা রকম জটিলতা, দেহের টিস্যু ও যন্ত্র বিকল হতে থাকে।
7
বৈদ্যুতিক বাল্বের আবিষ্কারক কে?
ক বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
খ টমাস আলভা এডিসন
গ হেনরি ফোর্ড
ঘ আইজ্যাক নিউটন
সঠিক উত্তর: খ (টমাস আলভা এডিসন)
ব্যাখ্যা:
বৈদ্যুতিক বাল্বের আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসন (ফেব্রুয়ারি ১১, ১৮৪৭ - অক্টোবর ১৮, ১৯৩১) ছিলেন মার্কিন উদ্ভাবক এবং ব্যবসায়ী। তিনি গ্রামোফোন, ভিডিও ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব) সহ বহু যন্ত্র তৈরি করেছিলেন যা বিংশ শতাব্দীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এডিশন ইতিহাসের অতিপ্রজ বিজ্ঞানীদের অন্যতম একজন বলে বিবেচিত, যার নিজের নামে ১, ০৯৩টি মার্কিন পেটেন্টসহ যুক্তরাজ্যে, ফ্রান্স এবং জার্মানির পেটেন্ট রয়েছে। গণযোগাযোগ খাতে বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতে তার বহু উদ্ভাবনের মাধ্যমে তার অবদানের জন্য তিনি সর্বস্বীকৃত। যার মধ্যে একটি স্টক টিকার, ভোট ধারনকারী যন্ত্র, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারী, বৈদ্যুতিক শক্তি, ধারনযোগ্য সংগীত এবং ছবি। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি সাধনকারী তার কাজগুলো তাকে জীবনের শুরুর দিকে একজন টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলে। বাসস্থান, ব্যবসায় - বাণিজ্য বা কারখানায় বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন ও বন্টনের ধারনা এবং প্রয়োগ দুটিই এডিসনের হাত ধরে শুরু হয় যা আধুনিক শিল্পায়নের একটি যুগান্তকারী উন্নতি। নিউইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপে তার প্রথম বিদ্যুত কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়।
8
গ্রিন-হাউজ ইফেক্ট বলতে বুঝায় -----
ক সূর্যালোকের অভাবে সালোক সংশ্লেষণে ঘাটতি
খ প্রাকৃতিক চাষের বদলে ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম চাষের প্রয়োজনীয়তা
গ উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূমণ্ডলের অবলোকন
ঘ তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর: ঘ (তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি)
ব্যাখ্যা:
গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা ভূপৃষ্ঠ হতে বিকীর্ণ তাপ বায়ুমণ্ডলীয় গ্রিন হাউজ গ্যাসসমূহ দ্বারা শোষিত হয়ে পুনরায় বায়ুমণ্ডলের অভ্যন্তরে বিকিরিত হয় । এই বিকীর্ণ তাপ ভূপৃষ্ঠে উপস্থিতিতেও বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে ফিরে এসে ভূপৃষ্ঠের তথা বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দেয় । মূলত সৌর বিকিরণ দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে এবং ভূপৃষ্ঠ পরবর্তীকালে এই শক্তি নিম্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে অবলোহিত রশ্মি আকারে নির্গত করে । এই অবলোহিত রশ্মি বায়ুমণ্ডলস্থ গ্রিন হাউজ গ্যাসসমূহ দ্বারা শোষিত হয়ে অনেক বেশি শক্তি আকারে ভূপৃষ্ঠে ও বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে পুনঃবিকিরিত হয় । গ্রীন হাউসের প্রভাবে নিম্নভুমি নিমজ্জিত হবে।
9
ফিউশন প্রক্রিয়ায় ------
ক একটি পরমাণু ভেঙ্গে প্রচন্ড শক্তি সৃষ্টি করে
খ ভারী পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু গঠিত হয়
গ একটি পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু সৃষ্টি হয়
ঘ একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
সঠিক উত্তর: ঘ (একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে)
ব্যাখ্যা:
প্রবল চাপে হাইড্রোজেন পরমাণু একটির সঙ্গে আরেকটি মিলে যায় । হাইড্রোজেন পরমাণু একীভূত হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বলে ফিউশন । আর এই ফিউশন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় হিলিয়াম । একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে আগের চেয়ে ভারী পরমাণু উৎপন্ন করার এই প্রক্রিয়ায় একই সঙ্গে নতুন মৌল ও শক্তি পাওয়া যায় । এই শক্তির উৎস হচ্ছে পরমাণুগুলোর কেন্দ্র , যাকে নিউক্লিয়াস বলে । কিন্তু এই ফিউশন প্রক্রিয়া থেকে সব সময় শক্তি পাওয়া যায় না । আয়রন বা লোহার চেয়ে ভারী মৌলের পরমাণুর ক্ষেত্রে ফিউশনের ফলে শক্তির শোষণ হয় ।
10
প্রবল জোয়ারের কারণ, এ সময় ------
ক সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণ করে থাকে
খ পৃথিবীর সূর্যর সবচেয়ে কাছে থাকে
গ সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী এক সরল রেখায় থাকে
ঘ চন্দ্র পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকে
সঠিক উত্তর: গ (সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী এক সরল রেখায় থাকে)
ব্যাখ্যা:
পৃথিবীর বাইরের মহাকর্ষীয় শক্তির (বিশেষ করে চাঁদের) প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি নিয়মিত বিরতিতে ফুলে ওঠাকে জোয়ার ও নেমে যাওয়ার ঘটনাকে ভাঁটা (একত্রে জোয়ার - ভাটা) বলা হয়। জোয়ার - ভাটার ফলে সমুদ্রে যে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, তাকে জোয়ার তরঙ্গ (tidal waves) বলে। জোয়ারের পানি উপকূলের দিকে অগ্রসর হলে পানি সমতলের যে উত্থান ঘটে, তাকে জোয়ারের পানির সর্বোচ্চ সীমা (high tide water) এবং ভাটার পানি সমুদ্রের দিকে নেমে যাওয়ার সময় পানি সমতলের যে পতন ঘটে, তাকে জোয়ারের পানির সর্বনিম্ন সীমা (low tide water) বলে।
11
সূর্যরশ্মি কি গতিতে ভ্রমণ করে?
ক সেকেণ্ডে ১,৩৭,০০০ মাইল
খ সেকেণ্ডে ১,৭৫,০০০ মাইল
গ সেকেণ্ডে ১,৮৬,০০০ মাইল
ঘ সেকেণ্ডে ১,৬১,০০০ মাইল
সঠিক উত্তর: গ (সেকেণ্ডে ১,৮৬,০০০ মাইল)
ব্যাখ্যা:
সূর্য সূর্য (রবি নামেও ডাকা হয়) সৌরজগতের কেন্দ্রের খুব কাছে অবস্থিত তারাটির নাম। প্রায় আদর্শ গোলক আকৃতির এই তারা প্রধানত প্লাজমা তথা আয়নিত পদার্থ দিয়ে গঠিত যার মধ্যে জড়িয়ে আছে চৌম্বক ক্ষেত্র।এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৯২ হাজার কিলোমিটার যা পৃথিবীর ব্যাসের ১০৯ গুণ, ভর প্রায় ২× ১০৩০ কিলোগ্রাম তথা পৃথিবীর ভরের ৩ লক্ষ ৩০ হাজার গুণ। এই ভর সৌরজগতের মোট ভরের শতকরা ৯৯.৮৬ ভাগ। সূর্যের প্রধান গাঠনিক উপাদান হাইড্রোজেন, আসলে মোট ভরের তিন চতুর্থাংশই হাইড্রোজেন। হাইড্রোজেনের পরেই সবচেয়ে প্রাচুর্য্যময় মৌল হিলিয়াম। হিলিয়ামের চেয়ে ভারী মৌল সূর্যের মাত্র ১.৬৯% ভরের জন্য দায়ী, তারপরও এদের সম্মিলিত ভর পৃথিবীর ভরের ৫,৬২৮ গুণ। এই ভারী মৌলগুলোর মধ্যে রয়েছে অক্সিজেন, কার্বন, নিয়ন, লোহা ইত্যাদি। তারার শ্রেণীবিন্যাস করার একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে যা অনুসারে সূর্য জিটুভি (G2V) শ্রেণীর মধ্যে পড়ে। অনেক সময় একে হলদে বামন ডাকা হয় কারণ তার তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি বর্ণালীর হলুদ - সবুজ অংশে। সূর্যের রঙ সাদা হলেও ভূপৃষ্ঠ থেকে একে হলুদ দেখাতে পারে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নীল আলোর বিচ্ছুরণের কারণে। বর্ণালী ধরন "জিটু" বলে দেয় সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা আনুমানিক ৫৭৭৮ কেলভিন বা ৫৫০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর "ভি" দিয়ে বোঝায় আকাশগঙ্গার অধিকাংশ তারার মত সূর্যও একটি প্রধান ধারার তারা অর্থাৎ সে কেন্দ্রভাগে নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে অবিরাম হাইড্রোজেন পুড়িয়ে হিলিয়াম উৎপাদন করে যাচ্ছে। কেন্দ্রে সূর্য প্রতি সেকেন্ডে ৬২ কোটি মেট্রিক টন হাইড্রোজেন পোড়ায়। আগে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যকে অনুজ্জ্বল ও বেশ তাৎপর্যহীন একটি তারা মনে করলেও বর্তমানে জানা গেছে আকাশগঙ্গার শতকরা ৮৫ ভাগ তারার চেয়ে সূর্যের উজ্জ্বলতা বেশি, প্রকৃতপক্ষে আকাশগঙ্গার অধিকাংশ তারাই লোহিত বামন। সূর্যের পরম মান + ৪.৮৩; কিন্তু পৃথিবীর খুব কাছে হওয়ার কারণে আকাশে একে অন্য যেকোন বস্তুর চেয়ে অনেক উজ্জ্বল দেখায়, তাই আপাত মান অনেক কম, - ২৬.৭৪।সূর্যের করোনা অবিরত মহাশূন্যে প্রসারিত হতে থাকে যে কারণে সৌরঝড়ের জন্ম হয়। সৌরঝড় মূলত আয়নিত কণার ধারা যা হেলিওপজ তথা প্রায় ১০০ নভো - একক (সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্বের ১০০ গুণ) পর্যন্ত ধেয়ে যায়। সৌরঝড়ের মাধ্যমে আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমে সৃষ্ট হেলিওস্ফিয়ার বা সৌরমণ্ডল সৌরজগতের বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন কাঠামো। সূর্য বর্তমানে স্থানীয় বুদবুদ অঞ্চলের স্থানীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করছে যা আকাশগঙ্গার কালপুরুষ বাহুর ভেতরের দিকে অবস্থিত। পৃথিবী থেকে ১৭ আলোকবর্ষ দূরত্বের মাঝে তথা সবচেয়ে নিকটবর্তী ৫০টি তারার (সবচেয়ে নিকটবর্তী তারা প্রক্সিমা সেন্টরি ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে) মধ্যে সূর্য ভরের দিক দিয়ে চতুর্থ।সূর্য আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে আনুমানিক ২৪ - ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং কেন্দ্রের চারদিকে ২২.৫ থেকে ২৫ কোটি বছরে একবার ঘুরে আসে। ছায়াপথীয় উত্তর মেরু থেকে দেখলে সূর্যের এই আবর্তন ঘড়ির কাঁটার দিকে। আমাদের ছায়াপথ যেহেতু মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণের (পটবিকিরণ) সাপেক্ষে হ্রদসর্প মণ্ডলের দিকে সেকেন্ডে ৫৫০ কিলোমিটার বেগে ধাবিত হচ্ছে সেহেতু পটবিকিরণের সাপেক্ষে সূর্যের বেগ কাংস্য বা সিংহ মণ্ডলের দিকে সেকেন্ডে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব আনুমানিক ১৪.৯৬ কোটি কিলোমিটার যাকে ১ নভো - একক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে পৃথিবীর কক্ষপথ যেহেতু উপবৃত্তাকার সেহেতু সূর্য থেকে তার দূরত্ব পরিবর্তিত হয়, জানুয়ারি মাসে সে সূর্যের সবচেয়ে কাছে (অনুসূর) আসে এবং জুলাইয়ে সবচেয়ে দূরে (অপসূর) সরে যায়।যাহোক, গড় দূরত্বে সূর্য থেকে আলো পৃথিবীতে আসতে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড সময় নেয়। এই সূর্যালোকের শক্তি পৃথিবীর প্রায় সকল জীবকে বাঁচিয়ে রাখে। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এই আলো থেকে খাদ্য উৎপাদন করে এবং প্রাণীরা খাদ্যের জন্য এসব উদ্ভিদ বা অন্য প্রাণীর উপর নির্ভর করে। পাশাপাশি জলবায়ু এবং আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণেও সূর্যালোক প্রধান ভূমিকা রাখে। পৃথিবীর উপর সূর্যের বিশাল প্রভাব সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই মানুষ অনুধাবন করে আসছে। অনেক সংস্কৃতিতে সূর্যকে তাই দেবতা মনে করা হতো। তবে সূর্যের প্রকৃত কাঠামো সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ধারণা গড়ে উঠতে অনেক সময় লেগেছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত বিজ্ঞানীরাও সূর্যের গাঠনিক উপাদান এবং শক্তির উৎস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতেন না। এখনও সূর্য নিয়ে গবেষণা চলছে কারণ তার কিছু ব্যবহর এখনও পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায়নি।
12
থিওরি অব রিলেটিভিটি(Theory of Relativity) এর উদ্ভাবক কে?
ক চার্লস ডারউইন
খ আলবার্ট আইনস্টাইন
গ জগদীশ চন্দ্র বসু
ঘ আইজ্যাক নিউটন
সঠিক উত্তর: খ (আলবার্ট আইনস্টাইন)
ব্যাখ্যা:
পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের জন্ম জার্মানির উলম শহর , ১৪ মার্চ ১৮৭৯ । ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয় তার যুগান্তকারী তত্ত্ব ' আপেক্ষিকতাবাদ' (Theory of Relativity ) । সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীমহলে ছড়িয়ে পড়ে তার খ্যাতি। ১৯০৯ সালে জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে তত্ত্বীয় পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক নিযুক্ত হলেন আইনস্টাইন। ১৯১৩ সালে নিযুক্ত হলেন বার্লিনের 'কাইজার ভিলহেলম ফিজিক্যাল ইনস্টিটিউট' - এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক । ১৯২১ সালে ফটোইলেকট্রিসিটি বিষয়ে গবেষণার জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের অন্যতম যুগান্তকারী আবিষ্কার হলো ভর শক্তি সমীকরণ E = mc2 । এখানে E = শক্তি, m = ভর এবং c = আলোর গতিবেগ।
13
পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক কে?
ক আইনস্টাইন
খ অটোহ্যান
গ রোজেনবার্গ
ঘ ওপেনহাইমার
সঠিক উত্তর: ঘ (ওপেনহাইমার)
ব্যাখ্যা:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে ম্যানহাটন প্রকল্পের সাহায্যে প্রথম পারমানুবিক বোমা আবিষ্কারের জন্যে এনরিকো ফারমির পাশাপাশি রবার্ট ওপেনহেইমারকেও পারমানুবিক বোমার জনকরুপে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
14
"গ্রীন হাউজ ইফেক্টের' পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর প্রত্যক্ষ ক্ষতি কি হবে?
ক উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে
খ নাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে
গ বৃষ্টিপাত কমে যাবে
ঘ নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
সঠিক উত্তর: ঘ (নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে)
ব্যাখ্যা:
গ্রীন হাউজ গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা ভূপৃষ্ঠ হতে বিকীর্ণ তাপ বায়ুমণ্ডলীয় গ্রিন হাউজ গ্যাসসমূহ দ্বারা শোষিত হয়ে পুনরায় বায়ুমণ্ডলের অভ্যন্তরে বিকিরিত হয়। এই বিকীর্ণ তাপ ভূপৃষ্ঠে উপস্থিতিতেও বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে ফিরে এসে ভূপৃষ্ঠের তথা বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। মূলত সৌর বিকিরণ দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে এবং ভূপৃষ্ঠ পরবর্তীকালে এই শক্তি নিম্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে অবলোহিত রশ্মি আকারে নির্গত করে। এই অবলোহিত রশ্মি বায়ুমণ্ডলস্থ গ্রিন হাউজ গ্যাসসমূহ দ্বারা শোষিত হয়ে অনেক বেশি শক্তি আকারে ভূপৃষ্ঠে ও বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে পুনঃবিকিরিত হয়। শীতপ্রধান দেশগুলোতে সাধারণত কাচ নির্মিত গ্রিন হাউজ তৈরি করে উদ্ভিদ উৎপাদন করার পদ্ধতি অনুসরণ এই প্রক্রিয়ার নামকরণ করা হয়। একটি গ্রিন হাউজে সৌর বিকিরণ কাচের মধ্য দিয়ে গ্রিন হাউজটিকে উত্তপ্ত র াখে, এখানে মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে গ্রিন হাউজটিকে বাতাসের প্রবাহ হ্রাস করে উত্তপ্ত বাতাস কাচের কাঠামোর মধ্যে পরিচলন ব্যতিরেকে ধরে রাখতে পারে। সূর্য থেকে পৃথিবীর মতো দূরত্বে যদি কোনো আর্দশ তাপ - সুপরিবাহী কৃষ্ণবস্তু (আর্দশ ভৌত পদার্থ যা তার উপর আপতিত সকল তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণ শোষণ করতে পারে) থাকত তাহলে বস্তুটির তাপমাত্রা হত প্রায় ৫.৩° সেলসিয়াস। যেথপৃথিবী িবী তার দিকে আগত সৌররশ্মির ৩০ শতাংশ প্রতিফলন করে সেহেতু, এই আর্দশ গ্রহের কার্যকর তাপমাত্রা (একটি কৃষ্ণবস্তুও এই সমপরিমাণ তাপমাত্রা বিকিরণ করবে) হবে প্রায় - ১৮° সেলসিয়াস। এই কল্পিত গ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩৩° সেলসিয়াসের নিচে যেখানে পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রকৃত তাপমাত্রা প্রায় ১৪° সেলসিয়াস। বায়ুমণ্ডলেরডলের কারণে যে প্রক্রিয়া পৃষ্ঠের প্রকৃত তাপমাত্রা ও কার্যকর তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে তাইিন ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়া। পৃথিবীতে এই প্রাকৃতিক গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া প্রাণের সৃষ্টি করতে সহায়তা করেছে। কিন্তু, মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিশেষত, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত দহন এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া তীব্রতর হচ্ছে ফলশ্রুতিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
15
নিত্য ব্যবহার্য বহু ' এরোসোলের' কৌটায় এখন লেখা থাকে 'সিএফসি' বিহীন। সিএফসি গ্যাস কেন ক্ষতিকারক?
ক ফুসফুসে রোগ সৃষ্টি করে
খ ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে
গ দাহ্য বলে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা ঘটায়
ঘ গ্রিন হাউজ ইফেক্টে অবদান রাখে
সঠিক উত্তর: খ (ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে)
ব্যাখ্যা:
হিমায়করুপে ব্যবহার্য সিএফসি গ্যাস ব্যবহার করলে দীর্ঘ দিনের ব্যবধানে ওজন স্তরে গিয়ে অতি বেগুনী রশ্মীর উপস্থিতিতে জটিল বিক্রিয় করে ওজন স্তর ক্ষয় করে। এজন্য সিএফসি একটি নিরব ধাতক।
0 টি সিলেক্টেড (লগইন ছাড়া ২০টি)